কক্সবাজারের রামুতে আর্ন্তজাতিক মানের আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত বৌদ্ধ বিহারগুলো উদ্বোধন করতে রামু আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩ সেপ্টেম্বর রামু পৌঁছে রামু সহিংসতার পর নতুন ভাবে নির্মিত উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় সীমা বিহার ও লালচিং বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন করবেন। এর পর তিনি একটি সুশীল সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক সভায় উপস্থিত একটি সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী আসবেন তাই আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ বিহারগুলোর নির্মান কাজ শেষ করা হয়েছে। রামুুর বৌদ্ধ পল্লীগুলোতেও যেন সাজ সাজ রব। চারিদিকে পোঁড়া গন্ধ এখন আর নেই। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের সহিংসতার শিকার বৌদ্ধ পল্লীর মানুষগুলোর মাঝেও অতি দ্রুত নতুন করে বাঁচার আশা জেগেছে। ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলো ফিরে পেয়েছে নিজস্ব নান্দনিকতা। নব রুপে নব সাজে আলোকিত হয়ে উঠেছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথের রাজস্বী গ্রন্থের পুরনো সে জনপদ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেকটি বৌদ্ধ মন্দির সংস্কার করা হয়েছে সরকারী অর্থায়নে। অত্যাধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে পুনঃনির্মান করা জয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ মন্দিরগুলো। সংস্কার করে দেয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ বিহার। পুড়ে যাওয়া বাড়ি ঘরও পুনঃনির্মান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এসব বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়েছে। বিজিবির তত্ত্বাবধানে এর আগেই বাড়ি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আবারো পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের পদভারে মুখরিত হবে রম্যভূমি রামুর জনপদ এমনি আশা করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, রামুর উত্তম বড়–য়া নামের এক যুবক ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার ছবি যুক্ত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উগ্র মৌলবাদীরা রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা চালায়। ধ্বংস হয়ে যায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অতি মূল্যবান বুদ্ধের পবিত্র ধাতু ও তাল পাতায় লিখা হাজার বছরের প্রাচীন পবিত্র ত্রিপিটক গ্রন্থ।
১২টি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরে এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ২৬টি বসতবাড়ীতে প্রথমে লুটপাট ও পরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৬টি বৌদ্ধ মন্দির ও অর্ধশত বসতঘরে লুটপাট ও ভাংচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ার বৌদ্ধ পল্লীতে অনুরূপ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় উগ্রপন্থীরা।
গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামুর বৌদ্ধ পল্লী পরিদর্শনে এসে উগ্রবাদীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত বৌদ্ধ বিহার পুনঃনির্মাণের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ এবং সংস্কারের। বৌদ্ধ স্থাপত্য শৈলী অনুসরণ করেই রামু’র নবনির্মিত বৌদ্ধ মন্দিরের নকশা তৈরি করেছেন বিশিষ্ট স্থপতি বিশ্বজিত বড়–য়া।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বৌদ্ধ স্থাপত্য শৈলী বজায় রেখেই রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের ৩ তলা ভবন, উ. মংরি বৌদ্ধ মন্দির (লাল চিং), বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র সহ অন্যান্য বৌদ্ধ বিহারগুলো নির্মান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, বিহার নির্মাণ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কোন অভাব ছিল না। তাঁর নির্দেশেই সেনাবাহিনী খুব সুন্দর ভাবে কাজ সম্পন্ন করেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ঐক্য ও কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়–য়া বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব বিহার নির্মাণ হওয়ায় বৌদ্ধরা খুশী। অচিরেই এসব নতুন মন্দিরে উপাসনাসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারব।
সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জুলফিকার রহমান বলেন, রামু সহিংসতার পর সেনাবাহিনীর উপর সরকারের অর্পিত দায়িত্ব আমরা শতভাগ গুনগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। গত বছরের নভেম্বরে বৌদ্ধ বিহার নির্মান ও সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। পুনঃনির্মান ও সংস্কার কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধুমাত্র সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস